Header Ads

Header ADS

Total Pageviews

সিল্ক টেক্সটাইলের বৈশিষ্ট্য ও ব্যব

সিল্ক (Silk) টেক্সটাইল হলো একটি প্রাকৃতিক প্রোটিন ফাইবার থেকে তৈরি বিলাসবহুল ও মসৃণ বস্ত্র। এটি রেশম পোকা (Bombyx mori) লার্ভা দ্বারা উৎপাদিত কোকুন থেকে সংগ্রহ করা হয়। সিল্কের মসৃণতা, উজ্জ্বলতা এবং টেকসইতা এটিকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তুলেছে।


সিল্ক টেক্সটাইলের বৈশিষ্ট্য:

  • মসৃণ ও নরম: প্রাকৃতিকভাবে চকচকে ও সুন্দর ড্রাপ রয়েছে।

  • শক্তিশালী: স্টিলের মতো শক্তির সমান টেনসাইল স্ট্রength (প্রতি ইউনিট ক্রস-সেকশনে)।

  • হাইগ্রোস্কোপিক: তাপ ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

  • হালকা ও বায়ুচলাচলযোগ্য: গরম ও ঠান্ডা উভয় আবহাওয়ায় পরা যায়।

সিল্কের প্রকারভেদ:

  1. মলবেরি সিল্ক (Mulberry Silk): সর্বোচ্চ মানের, রেশম পোকার চাষ করে উৎপাদিত।

  2. টাসার সিল্ক (Tussar Silk): বুনো রেশম পোকা থেকে তৈরি, খসখসে টেক্সচার।

  3. এরি সিল্ক (Eri Silk): নন-ভায়োলেন্ট সিল্ক (কোকুন না মেরে সংগ্রহ করা হয়)।

  4. মুগা সিল্ক (Muga Silk): অসমে উৎপাদিত, স্বর্ণালী রঙের।

ব্যবহার:

  • পোশাক: শাড়ি, স্কার্ফ, টাই, ব্লাউজ, ড্রেস।

  • হোম টেক্সটাইল: বেডশিট, কার্পেট, কার্টেন।

  • মেডিক্যাল: সিল্ক স্যাচুরেশন স্টিচিং থ্রেড।

সিল্কের যত্ন:

  • হাত দিয়ে ঠান্ডা পানিতে হালকা ডিটারজেন্টে ধুতে হবে।

  • রোদে শুকানো এড়িয়ে ছায়ায় শুকানো উচিত।

  • আয়রন ব্যবহার করলে লো-হিট মোডে ব্যবহার করুন।

সিল্ক টেক্সটাইলের মূল্য বেশি হওয়ায় অনেক সময় সিন্থেটিক সিল্ক (আর্টিফিশিয়াল সিল্ক) যেমন রেয়ন ব্যবহার করা হয়, যা দেখতে একই রকম কিন্তু প্রাকৃতিক সিল্কের মতো গুণমানসম্পন্ন নয়।

বাংলাদেশ ও ভারতে সিল্ক শাড়ি (যেমন বালুচরিমুর্শিদাবাদ সিল্ক) অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশ্বে চীন, ভারত ও ব্রাজিল সিল্ক উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে।

আরও জানতে চাইলে নির্দিষ্ট কিছু জানাতে পারেন! 😊


Chemical Constitution of Silk (সিল্কের রাসায়নিক গঠন)

সিল্ক একটি প্রাকৃতিক প্রোটিন ফাইবার, যা মূলত ফাইব্রোইন (Fibroin) নামক প্রোটিন দ্বারা গঠিত এবং এটি সেরিসিন (Sericin) নামক আঠালো প্রোটিন দ্বারা আবৃত থাকে।

1. প্রধান উপাদান:

  • ফাইব্রোইন (Fibroin): ~75-80% (ফাইবারের মূল কাঠামো দেয়)

  • সেরিসিন (Sericin): ~20-25% (প্রাকৃতিক আঠা যা ফাইব্রোইনকে আচ্ছাদিত করে)

  • অন্যান্য উপাদান: ফ্যাট, মোম, খনিজ লবণ (~1-5%)

2. রাসায়নিক সংকেত (Amino Acid Composition):

সিল্ক ফাইব্রোইন অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার, যার মধ্যে প্রধানত নিম্নলিখিত অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে:

অ্যামিনো অ্যাসিডপ্রতিশত (%)
গ্লাইসিন (Glycine)~42-45%
অ্যালানিন (Alanine)~30-35%
সেরিন (Serine)~10-12%
টাইরোসিন (Tyrosine)~4-5%
ভ্যালিন (Valine)~2-3%
অ্যাস্পার্টিক অ্যাসিড~1-2%

3. রাসায়নিক গঠনের বৈশিষ্ট্য:

  • পলিপেপটাইড চেইন: β-প্লিটেড শিট স্ট্রাকচার (β-keratin-like), যা সিল্ককে শক্তিশালী করে।

  • হাইড্রোজেন বন্ড: গ্লাইসিন ও অ্যালানিনের মধ্যে শক্তিশালী আন্তঃআণবিক বন্ধন।

  • হাইড্রোফোবিক প্রকৃতি: ফাইব্রোইন জলে অদ্রবণীয়, কিন্তু সেরিসিন জলে দ্রবণীয় (গরম পানিতে দ্রবীভূত হয়)।

4. সিল্কের রাসায়নিক বিক্রিয়া:

  • অ্যাসিডের সাথে: ঘনীভূত অ্যাসিড (HCl, H₂SO₄) সিল্ককে ক্ষতি করে, তবে মৃদু অ্যাসিডে সহনশীল।

  • ক্ষারের সাথে: ক্ষার (NaOH) সিল্কের প্রোটিন ভেঙে দেয়।

  • অক্সিডাইজিং এজেন্ট: ব্লিচিং এজেন্ট (হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড) সিল্কের রঙ নষ্ট করতে পারে।

5. সিল্কের অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণ:

  • গ্লাইসিন ও অ্যালানিনের উচ্চ মাত্রা সিল্ককে নমনীয় ও শক্তিশালী করে।

  • β-কনফিগারেশন তাপ ও যান্ত্রিক চাপ সহ্য করতে সাহায্য করে।

উপসংহার:

সিল্কের মূল রাসায়নিক গঠন ফাইব্রোইন ও সেরিসিন, যা অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার দ্বারা গঠিত। এর β-প্লিটেড শিট স্ট্রাকচার এবং হাইড্রোজেন বন্ডিং সিল্ককে মসৃণ, টেকসই এবং বিলাসবহুল করে তোলে।

আরও জানার থাকলে জানাতে পারেন! 😊


No comments

Disqus Shortname

Comments system

Comments System

Disqus Shortname

Powered by Blogger.